জাতীয়

চীন সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া ‘অপ্রয়োজনীয়’—গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়

  ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ২৩ জুন ২০২৬ , ৩:৪৭ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে কেন্দ্র করে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস। একটি সম্পাদকীয় কলামে পত্রিকাটি বলেছে, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক উন্নয়ন কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয় এবং এ সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের অবস্থানের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়।

সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চীন সফর করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম চীন সফর। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য নতুন চ্যাম্পিয়নদের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশ নেবেন। চীনের মতে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

গ্লোবাল টাইমস আরও জানায়, বাংলাদেশ ও চীন একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যেমন আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প বৈচিত্র্যকরণ এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন। এসব ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়।

চীন দাবি করে, তারা টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। এছাড়া ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশকে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নয়ন কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার অংশ।

ভারতীয় গণমাধ্যমের কিছু প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে গ্লোবাল টাইমস মন্তব্য করে, সেখানে “বড় ভাই মনোভাব” কাজ করছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, প্রতিবেশী দেশের স্বাধীন কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতার জন্য বহুস্তরীয় আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে, যেখানে চীন, বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলো পারস্পরিক উন্নয়নে কাজ করতে পারে।

সম্পাদকীয়তে আরও উল্লেখ করা হয়, চীন-ভারত সম্পর্ক উন্নয়ন, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডোর—সবই কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়। বরং এগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য উন্মুক্ত সহযোগিতার ক্ষেত্র।

চীন ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী বলেও জানানো হয়।

 

 

 

ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক