ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ৩০ জুন ২০২৬ , ৩:০৪ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
ভয়াবহ ভূমিকম্পে মুহূর্তেই ধসে পড়ে বহুতল ভবন। কংক্রিটের স্তূপের নিচে আটকা পড়েন এক মা ও তার মাত্র ১৮ দিন বয়সী নবজাতক। দীর্ঘ সময় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর অবশেষে জীবিত উদ্ধার হন দুজনই। তাদের বেঁচে ফেরার ঘটনাকে অনেকেই ‘অলৌকিক’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা লা গুয়াইরায় একটি বহুতল ভবনের অষ্টম তলার ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন দায়ানা পাতিনো। থালাবাসন ধোয়ার সময় হঠাৎ জোড়া ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়লেও তিনি ১৮ দিন বয়সী ছেলে হুয়ান দাভিদকে বুকের সঙ্গে আগলে রাখেন।
উদ্ধারের পর দায়ানা জানান, সন্তানের উপস্থিতিই তাকে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে। তিনি বলেন, যতক্ষণ আমার সন্তান শ্বাস নিচ্ছিল, ততক্ষণ আমারও বেঁচে থাকার তাগিদ ছিল। বারবার তার নাকের কাছে হাত রেখে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করতাম যে সে এখনো বেঁচে আছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে তার বাম পা কংক্রিটের নিচে আটকে যায় এবং মাথার পাশে একটি বড় পাথর চাপা ছিল। প্রথমে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও পরে শক্তি বাঁচিয়ে রাখতে শুধু মানুষের কণ্ঠস্বর শুনলেই সাড়া দিতেন। একপর্যায়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একটি বাইবেল খুঁজে পেয়ে নতুন করে সাহস পান।
অন্ধকারের মধ্যে একসময় তিনি নিজের ভাইয়ের কণ্ঠস্বর শুনতে পান। সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করলে ভাই তার অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে দীর্ঘ ও অত্যন্ত সতর্ক উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে মা ও শিশুকে জীবিত বের করে আনা হয়।
ভূমিকম্পে দায়ানার দুই পায়ে আঘাত লাগলেও নবজাতক হুয়ান দাভিদ বড় ধরনের ক্ষতি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। এদিকে, ঘটনার সময় ভবনের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান দায়ানার স্বামী গেরসন। স্ত্রী ও সন্তানকে জীবিত ফিরে পাওয়ার পর তিনি বলেন, ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখে তাদের আর জীবিত পাবেন বলে আশা করেননি। তাদের উদ্ধার হওয়া তার কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো।
ভূমিকম্পে পরিবারের বাড়ি, আসবাবপত্রসহ প্রায় সব সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। নিখোঁজ রয়েছে তাদের পোষা কুকুরটিও। তবে সব হারিয়েও নতুন করে জীবন শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই দম্পতি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি।
ডিটিএ নিউজ ডেস্ক











