ডেইলি টপ আলাপ নিউজ ১ জুন ২০২৬ , ৯:০১ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
🚨 ব্রেকিং নিউজ | ডেইলি টপ আলাপ নিউজ 🚨

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভারসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। আর এই সুযোগে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী-মধুপুর-চন্দ্রা-উত্তরা-এয়ারপোর্ট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিনিময় পরিবহন-এর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে।
ডেইলি টপ আলাপ নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিনিধি দল ধনবাড়ী, মধুপুরসহ বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার পরিদর্শন করে এবং ভুক্তভোগী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে একাধিক অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করেছে। যাত্রীদের দাবি, ধনবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যেখানে অন্যান্য পরিবহন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া আদায় করছে, সেখানে বিনিময় পরিবহন যাত্রীপ্রতি ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।
অভিযোগ রয়েছে, যাত্রীরা মাঝপথে যে স্থানেই নামুক না কেন, তাদের কাছ থেকে একই পরিমাণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ফলে চন্দ্রা, জাহাপাড়া, নবীনগর, বাইপাইল, আশুলিয়া, উত্তরা কিংবা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এয়ারপোর্ট) এলাকায় নামা যাত্রীদেরও পুরো ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে পরিবহনটির কাউন্টারে টাঙানো ভাড়ার তালিকায় ঢাকা (মহাখালী) থেকে ধনবাড়ী ও মধুপুর পর্যন্ত সিটপ্রতি ৪০০ টাকা ভাড়া উল্লেখ থাকতে দেখা গেছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, বাস্তবে যাত্রীচাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়ার পরিমাণও বাড়তে থাকে।
বর্তমানে ঈদের ছুটি শেষে হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থলে ফিরছেন। এই বাড়তি চাপকে কেন্দ্র করেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। পোশাকশ্রমিক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা অভিযোগ করেছেন, সীমিত আয়ের মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করতে গিয়ে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, “সিটিং সার্ভিস” নামে প্রচারণা চালানো হলেও বাস্তবে বাসটি লোকাল পরিবহনের মতো পরিচালিত হয়। পথে পথে যাত্রী ওঠানামা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং সাধারণ লোকাল বাসের মতো সেবা দিয়েও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন একাধিক যাত্রী।
অনেক যাত্রী জানান, অতীতের বিভিন্ন ঈদ মৌসুমেও একই ধরনের অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময় সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। ফলে এবারও যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, যাত্রীচাপ আরও বৃদ্ধি পেলে ভাড়া আবারও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
ডেইলি টপ আলাপ নিউজের প্রতিনিধি দল বিভিন্ন কাউন্টার পরিদর্শনের সময় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ লক্ষ্য করেছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, কিছু পরিবহন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে।
সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন— ঈদের আগে বাড়ি ফেরা কিংবা ঈদের পরে কর্মস্থলে ফেরার সময় কেন সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা বহন করতে হবে? দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা কেন বারবার পরিবহন নৈরাজ্যের শিকার হবেন?
ভুক্তভোগী যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সচেতন মহল অবিলম্বে বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি এবং সিটিং সার্ভিসের নামে অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
✅ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে
✅ নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা কার্যকর করতে হবে
✅ সিটিং সার্ভিসের নামে অনিয়ম বন্ধ করতে হবে
✅ যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে
✅ ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে
অভিযোগের বিষয়ে বিনিময় পরিবহন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
ডেইলি টপ আলাপ নিউজ
“সত্যের পক্ষে, মানুষের পাশে”











