আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা, বাংলাদেশেও সতর্ক থাকার তাগিদ

  Daly Top Alap News ২৫ জুন ২০২৬ , ৪:১১ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

 দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্প দুটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে বিশ্বের বিভিন্ন ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম উদ্বেগজনক ভূকম্পন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রথমে ৭.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। পরপর দুটি বড় ধরনের কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) তাদের প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভবনের অবস্থা এবং ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিছু বিশ্লেষণে সম্ভাব্য প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের ফলে বিভিন্ন এলাকায় ভবনে ফাটল, সড়ক ধস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকিতে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাংলাদেশও বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টেকটোনিক প্লেট—ইন্ডিয়ান প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট এবং বার্মা প্লেটের প্রভাবাধীন এলাকায় অবস্থিত।

বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের ডাউকি ফল্ট এবং চট্টগ্রাম সংলগ্ন মায়ানমার সাবডাকশন জোন দীর্ঘদিন ধরে ভূতাত্ত্বিকদের নজরে রয়েছে। এসব এলাকায় সঞ্চিত ভূ-চাপ বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানী ঢাকার বড় অংশ নরম পলিমাটি দিয়ে গঠিত হওয়ায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের সময় ‘সয়েল লিকুইফেকশন’ বা মাটি তরলসদৃশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়তে পারে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পুরান ঢাকা ও অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরু রাস্তা, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ এবং উন্মুক্ত স্থানের সংকট বড় ধরনের দুর্যোগের পর উদ্ধার কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলতে পারে।

ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহ ভূমিকম্প আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও আগাম প্রস্তুতি, নিরাপদ ভবন নির্মাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

বাংলাদেশেও এখনই কার্যকর প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক