Daly Top Alap News ২৫ জুন ২০২৬ , ২:৩৭ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে বিদ্যমান আইনি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । তিনি বলেছেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ‘২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অপরাধীরা প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইনভিত্তিক নেটওয়ার্ক ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। ফলে প্রচলিত দুর্বল আইনি কাঠামো দিয়ে এই অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে সশস্ত্র মাদক কারবারিদের মোকাবিলা করতে হয়। এ অবস্থার পরিবর্তনে অধিদপ্তরে অত্যাধুনিক অস্ত্র, পর্যাপ্ত যানবাহন ও ডগ স্কোয়াড যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আসামিদের থানায় হস্তান্তরের পূর্ববর্তী সময়ের জন্য আধুনিক হাজতখানা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মামলা জট কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের জন্য পৃথক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়া, সাইবার অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক আইনি সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত এক জাতীয় গবেষণার তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন নতুন সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদকের বিস্তারের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকার তেজগাঁওসহ তিনটি বিভাগীয় শহরের নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়েছে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচিত ৭৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি কেন্দ্রগুলোকে বাণিজ্যিক মনোভাব পরিহার করে সরকারি বিধিমালা ও জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে মানবিক সেবা প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব , মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











