আন্তর্জাতিক

বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা, ৯০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি

  ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ১ জুলাই ২০২৬ , ৯:২০ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও ইসলামি চিন্তাবিদদের অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা জানিয়েছে আয়োজক কমিটি। এরই মধ্যে অন্তত ৩০টি দেশ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে।

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী এবং বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির প্রধান আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের ব্যাপকতা এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুষ্ঠানটি কয়েক দিনব্যাপী আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশি-বিদেশি অতিথিরা নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারেন।

জানানো হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নির্দেশনা এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফের নেতৃত্বে একটি জাতীয় সমন্বয় কমিটি পুরো কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই মরহুম আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে। সেখানে বাগদাদ অথবা নাজাফ বিমানবন্দরে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার পর নাজাফ ও কারবালায় শোকমিছিল, দোয়া ও বিশেষ স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৯ জুলাই ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদে ইমাম রেজার (আ.) মাজারসংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।

রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষে ইরানে কয়েক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৪ ও ৫ জুলাই তেহরান প্রদেশে, ৬ জুলাই দেশব্যাপী, ৭ জুলাই কোম শহরে এবং ৯ জুলাই খোরাসান রাজাভি প্রদেশে সাধারণ ছুটি পালন করা হবে।

অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে তেহরানের মেট্রো ও পৌর বাসসেবা ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠান চলাকালে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে ৩০০ জনের বেশি বিদেশি সাংবাদিক এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান কাভার করার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে, ইরাকের সঙ্গে যৌথ সমন্বয়ে সেখানেও একটি জাতীয় আয়োজন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আয়োজকদের আশা, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, আঞ্চলিক সংহতি এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি সমর্থনের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

 

ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক