ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ২৪ জুন ২০২৬ , ৮:১৮ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
প্রায় ১৪ মাস বিরতির পর আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধ, অপুষ্টি দূরীকরণ এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
তবে দুর্গম এলাকার শিশুদের আওতায় আনতে ১২ জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে মূল ক্যাম্পেইনের পরবর্তী চারদিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, ক্যাম্পেইনের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে হাতে পৌঁছেছে এবং সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। তিনি অভিভাবকদের নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা স্থানীয়ভাবে মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চের পর থেকে কর্মসূচিটি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ার ঝুঁকি হ্রাস এবং শিশুমৃত্যু কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচি চালু রয়েছে।
ডিটিএ/ নিউজ ডেস্ক











