Daly Top Alap News ১৭ জুন ২০২৬ , ৮:২৩ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
স্থানীয়রা জানান, আগে ভারী বৃষ্টি হলেও পানি দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে ড্রেন ও পানি নিষ্কাশনের পথ প্লাস্টিক বর্জ্য, পলিথিন ও অন্যান্য আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে ঘরবাড়ির ভেতরে প্রবেশ করছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন ব্যবহৃত প্লাস্টিকের কাপ, পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট, পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে ড্রেনগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আমরা গত ২৫ বছরেও কালিয়াকৈরে এমন পানি দেখিনি। আগে বৃষ্টি হলে কিছু সময়ের মধ্যেই পানি নেমে যেত। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যায়।”
পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি নিজেদের পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে। কারণ প্লাস্টিক বর্জ্যের অবাধ ব্যবহার ও অসচেতনভাবে তা ফেলে দেওয়ার প্রবণতা শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, জলাবদ্ধতার মতো বড় সংকটও তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রেন ও খাল-নালা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যবহার কমানো এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। অন্যথায় ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং জনজীবনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।
কালিয়াকৈরের বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, অবৈধ দখলমুক্ত খাল পুনরুদ্ধার এবং প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কালিয়াকৈর আবারও জলাবদ্ধতামুক্ত ও বাসযোগ্য এলাকায় পরিণত হবে।
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











