Daly Top Alap News ২৪ জুন ২০২৬ , ৩:০৩ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
অল্প সময়ে বিপুল মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত এক বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্রতারণার ঘটনায় প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তে উঠে এসেছে, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিনিয়োগকারীদের কাছে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে তাঁদের অর্থ আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং সেখান থেকে নিয়মিত লাভ অর্জিত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। বরং নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়েই পুরোনো বিনিয়োগকারীদের মুনাফা পরিশোধ করা হচ্ছিল, যা মূলত একটি পঞ্জি স্কিমের বৈশিষ্ট্য।
ইডির তথ্যমতে, সরাসরি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে বিভিন্ন কোম্পানি, ব্যাংক হিসাব এবং আর্থিক লেনদেনের অনুসন্ধানে প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকার অর্থ প্রবাহের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মামলায় সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। গত ১৫ জুন অন্যতম অভিযুক্ত মাসুম জুনেজাকে গ্রেফতার করে ইডি। হিমাচল প্রদেশ ও পাঞ্জাবে তাঁর এবং তাঁর বাবা বিজয় কুমার জুনেজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আটটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে এবং তিনটি লকারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ নথিপত্র, ডিজিটাল তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে মূল অভিযুক্ত হিসেবে সুভাষ শর্মার নাম উঠে এসেছে। ইডির দাবি, তিনি ২০২৩ সালে দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
তদন্তকারী সংস্থার তথ্যমতে, বিভিন্ন শহরে জাঁকজমকপূর্ণ সেমিনার আয়োজন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগকারী সংগ্রহের কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে হাজার হাজার মানুষকে এই প্রকল্পে যুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমে গেলে প্রকল্পটির ভাঙন শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, একের পর এক ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন নামে নতুন প্রকল্প চালুর চেষ্টা করা হয়। অনেক বিনিয়োগকারী তাঁদের অ্যাকাউন্টে অর্থ বৃদ্ধির তথ্য দেখতে পেলেও বাস্তবে সেই অর্থ উত্তোলন করতে পারেননি।
ইডির মতে, এটি শুধু একটি ব্যর্থ বিনিয়োগ প্রকল্প নয়; বরং পঞ্জি স্কিম, মাল্টি-লেভেল মার্কেটিংভিত্তিক প্রতারণা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে গঠিত একটি জটিল আর্থিক অপরাধ। প্রায় আড়াই লাখ মানুষের আর্থিক ক্ষতি এবং হাজার হাজার পরিবারের সঞ্চয় হারানোর ঘটনায় মামলাটি এখন জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











