জাতীয়

নেপালের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

  Daly Top Alap News ১৮ জুন ২০২৬ , ১২:৪৯ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

নেপালের প্রতিনিধি সভার স্পিকার ডোল প্রসাদ আরিয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। সোমবার রাষ্ট্রদূতের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত স্পিকারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন পৌঁছে দেন। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি (পিজিএ) নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থিতার প্রতি নেপালের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও নেপাল অনেক অভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রদূত জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সার্ক (SAARC) ও বিমসটেকসহ (BIMSTEC) আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

নেপালের স্পিকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা নেপালের জন্যও সহায়ক হতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, খেলাধুলা দুই দেশের জনগণের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলছে। এছাড়া তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

লবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ থেকে উদ্ভূত অভিন্ন ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে স্পিকার বলেন যে, হিমালয় অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশগত ঝুঁকি সমগ্র অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ উদ্বেগের বিষয়। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি অধিকতর আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। এছাড়া বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষা ও কারিগরি বিষয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও শিক্ষা-সুবিধা প্রদানে বাংলাদেশের অব্যাহত সহায়তারও তিনি প্রশংসা করেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নেপালের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্পিকার তাঁর আইনপ্রণয়ন-সংক্রান্ত দায়িত্বের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সুসংহত করতে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। তিনি দুই দেশের সংসদীয় কমিটিগুলোর মধ্যে বিনিময় কর্মসূচি জোরদার করার আগ্রহও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, Parliamentary Friendship Group-কে সংসদীয় সহযোগিতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা আরও সুসংহত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক