ডেইলি টপ আলাপ ১২ জুলাই ২০২৬ , ১:১৬ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৮৭০ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বৃহৎ কারখানা সৈয়দপুরে প্রতিষ্ঠার পর পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে রেলওয়ে শহর। সে সময় ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক এলাকাগুলোতে সড়ক, ড্রেনেজ ও কুপিবাতির স্ট্রিটলাইটের পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হয়। ওই সময় রোপণ করা রেইনট্রি, পাকুড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য গাছের অনেকগুলো বর্তমানে শতবর্ষ পার করে বয়সের ভারে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অফিসার্স কলোনি, সাহেবপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, মুন্সিপাড়া, হাতিখানা, আতিয়ার কলোনি, গোলাহাট, পুরাতন বাবুপাড়া ও বাঁশবাড়ী এলাকার রেলওয়ে কলোনিগুলোতে প্রায় এক হাজার পুরোনো গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি গাছকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অধিকাংশ গাছের গোড়া দুর্বল হয়ে গেছে এবং অনেক গাছ প্রায় মৃত অবস্থায় রয়েছে।
চলতি বর্ষা মৌসুমে একের পর এক গাছ উপড়ে পড়া ও ডাল ভেঙে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত মে ও জুলাই মাসে অফিসার্স কলোনিতে বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়কের (ডিএস) বাসভবনের সামনে দুটি বিশাল গাছ সামান্য বাতাসেই উপড়ে পড়ে। এর আগে পাঁচমাথা মোড়ে একটি রেইনট্রি গাছ উপড়ে যায়। গত ৩০ জুন জিআরপি মোড়ে আরেকটি গাছের অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়ে। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর সড়কে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে একটি শতবর্ষী পাকুড় গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, সরকারি গাছ কাটার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গত ১৮ মে রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে সৈয়দপুর রেলওয়ের পূর্ত বিভাগ। পরে বন বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো শনাক্ত করে। পরবর্তীতে ১১ জুন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ৩৩টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো যেকোনো সময় উপড়ে পড়ে প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তাই জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় নতুন গাছ রোপণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।”
সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম জানান, পথচারী ও গাছের নিচে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “গাছ কাটার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে শহরজুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার নতুন গাছের চারা রোপণ করা হবে, যাতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সবুজ শহর পায়।”
নিজস্ব প্রতিবেদক | সৈয়দপুর (নীলফামারী):
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











