ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ১৫ অগাস্ট ২০২৬ , ৬:২১ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) ‘ভেতর থেকে ধ্বংস’ করতে গোপন ছক কষছে রাশিয়া। রুশ সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এই কাজের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ক্রেমলিনের এক গোপন বৈঠকের সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের ব্যাপারে অবগত দুই দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়া একটি দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে। তাদের পরিকল্পনা হলো—ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাই করা এবং একই সঙ্গে মলদোভার রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা।
মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, চলতি বছরের শরৎকালেই ন্যাটো এই সংকটের মুখে পড়তে পারে। এই সময়ে সাইবার হামলা, অবকাঠামোতে নাশকতা থেকে শুরু করে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে অজ্ঞাত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, পুতিনের প্রধান লক্ষ্য ইউক্রেন দখল হলেও দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো মলদোভা নিয়ন্ত্রণ। মলদোভাকে কাজে লাগিয়েই মূলত ইউরোপকে অস্থিতিশীল করতে চায় মস্কো।
মস্কোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষিণ ইউক্রেন দখল করে রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে মলদোভা পর্যন্ত একটি সরাসরি করিডোর তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। এটি সফল হলে ন্যাটোভুক্ত রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মাঝে থাকা ২৪ লাখ মানুষের দেশ মলদোভা পুরোপুরি অরক্ষিত হয়ে পড়বে। তাছাড়া মলদোভার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল ট্রান্সনিস্ট্রিয়ায় আগে থেকেই রুশ সেনাদের উপস্থিতি রয়েছে, যেখান থেকে রাজধানী চিসিনাউ খুব কাছেই।
শুধু সামরিক আক্রমণই নয়, পরোক্ষ হামলায় মলদোভা কতটা নাজুক, তা সম্প্রতি প্রমাণিত হয়েছে। গত মার্চে ইউক্রেনের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে রুশ হামলার কারণে দনিস্টার নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়লে মলদোভার তৃতীয় বৃহত্তম শহরের পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ড্রোন হামলায় মলদোভায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জার্মানির প্রতিরক্ষাপ্রধান জেনারেল কারস্টেন ব্রেউয়ার জানিয়েছেন, ইউরোপের পূর্ব প্রান্তে প্রতিদিনই এমন ‘হাইব্রিড হামলা’ চলছে। এর জেরে পোল্যান্ড ও বাল্টিক দেশগুলো নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বাল্টিক অঞ্চলের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ধ্বংসযজ্ঞ নয়, বরং ন্যাটোর ভেতরে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।











