ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ৩০ জুলাই ২০২৬ , ৩:৩৬ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
অল্প পুঁজিতে অধিক লাভ এবং বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীতে দিন দিন বাড়ছে আখের চাষ। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর বেলে দোআঁশ মাটি এবং ভালো ফলনের কারণে প্রতি বছরই নতুন নতুন কৃষক আখ চাষে যুক্ত হচ্ছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিঘাপ্রতি আখ চাষে উৎপাদন খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। প্রায় ১০ মাসে ফসল পরিপক্ব হয়। ভালো ফলন হলে বিঘাপ্রতি আখ বিক্রি করে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। ফলে অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখ চাষকে অধিক লাভজনক মনে করছেন তারা।
তবে উৎপাদনের পাশাপাশি রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি বিভাগের প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তা বাড়ানো গেলে জেলায় আখের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈশ্বরদী-১৬, ঈশ্বরদী-১৭ এবং বিএসআরআই-৪১, ৪৫ ও ৪৭ জাতের আখ চাষ হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।
সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের কৃষক শিখনাথ রায় বলেন, ‘আমি ১৫ শতাংশ জমিতে আখের আবাদ করেছি। লাভ ভালো হওয়ায় আগামীতে আরও বেশি জমিতে চাষ করব। তবে সময়মতো রোগবালাই দমনের ব্যবস্থা না নিলে পচন রোগের প্রকোপ বাড়ে। সঠিক পরিচর্যা করলে অল্প খরচে ভালো লাভ করা সম্ভব।’
একই ইউনিয়নের বসুনিয়া বাজার এলাকার কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘আখ চাষ লাভজনক হলেও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। রোগবালাই, টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা কিংবা বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন কমে যেতে পারে। তাই কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’
নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ বলেন, আখ চাষে সরাসরি উপকরণ সহায়তা না থাকলেও কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও রোগবালাই দমন বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা বলেন, ‘নীলফামারীর মাটি আখ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার আখ রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। কৃষি বিভাগ সব সময় আখচাষিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে সরিষা, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, আলু, পেঁয়াজ, রসুন ও স্কোয়াশ চাষ করেও কৃষকরা অতিরিক্ত লাভ করতে পারেন।’
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











