Daly Top Alap ২০ জুন ২০২৬ , ১০:০৭ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর মধ্যে ক্ষুরা রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার খামার ও গ্রামাঞ্চলে অসংখ্য গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট থাকায় আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা করাতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খামারি ও পশুপালকরা। এতে গবাদিপশুর মৃত্যু এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী গ্রামের বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায় জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি গরু পালন করছেন। চলতি বছরে তার খামারের ছয়টি গরুই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। একই গ্রামের নাসিরসহ আরও অনেকের গরু আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত হওয়ার একদিন পর নাসিরের একটি বাছুর মারা যায়। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় আরও কয়েকটি ছোট গরুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আক্রান্ত গরুগুলোকে বাড়ির সামনে বেঁধে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ এক মাস ধরে গরুগুলোর পরিচর্যা, ওষুধ প্রয়োগ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারিদের।
মিলন চন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন, “পশু হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন পাইনি। বিভিন্ন জায়গা থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। গরুর দেখাশোনা করতে গিয়ে অন্য কাজও করতে পারছি না।”
তার স্ত্রী শিপু রানী বলেন, “গরুর চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, কিন্তু সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাইনি। বাজার থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এলাকায় অসংখ্য গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বড় গরুর মৃত্যু না হলেও কয়েকটি বাছুর মারা গেছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে ওষুধের সংকট থাকায় বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান জানান, ক্ষুরা রোগ সাধারণত বাতাস ও সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। কোরবানির সময় পশু পরিবহনের কারণে রোগটির বিস্তার বেড়ে যেতে পারে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রোগটি দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, “খামারিদের আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বড় গরুর মৃত্যু হয় না, তবে ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী বাছুর ঝুঁকিতে থাকে।”
ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে কোনো ভ্যাকসিন মজুদ নেই। কোরবানির আগেই চাহিদা পাঠানো হয়েছে এবং আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভ্যাকসিন হাতে পেলেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এদিকে দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও পশুপালকরা।
বরগুনা প্রতিনিধি:
ডিটিএ/ নিউজ ডেস্ক











