ভেস্টিজ আন্তর্জাতিক

এনএলপি ও ডিবিটির সমন্বয়ে আত্মউন্নয়নের ১০ কার্যকর কৌশল তুলে ধরলেন মেন্টাল টাফনেস প্রশিক্ষক মিস্টার মৃণাল চক্রবর্তী

  ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ৫ জুলাই ২০২৬ , ১১:০৭ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

 ভারতের কলকাতাভিত্তিক মেন্টাল টাফনেস (Mental Toughness) প্রশিক্ষক, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষক মিস্টার মৃণাল চক্রবর্তী এনএলপি (নিউরো-লিঙ্গুইস্টিক প্রোগ্রামিং) এবং ডিবিটি (ডায়ালেকটিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি)-এর সমন্বয়ে একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে ধীরে ধীরে অসাধারণ হয়ে উঠতে পারেন, সে বিষয়ে ১০টি বাস্তবধর্মী পরামর্শ তুলে ধরেছেন।

তার মতে, আত্মউন্নয়নের প্রথম ধাপ হলো নিজের পরিচয় বা মানসিক পরিচিতি পরিবর্তন করা। শুধু “আমি সফল হতে চাই” বলার পরিবর্তে নিজেকে এমন একজন মানুষ হিসেবে ভাবতে হবে, যিনি প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করেন। পরিচয়ের এই পরিবর্তন আচরণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

তিনি বলেন, নেতিবাচক চিন্তাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। “আমি ব্যর্থ” না ভেবে “আমি শিখছি” এবং “এটা অসম্ভব” না বলে “এর অন্য উপায় কী হতে পারে”—এভাবে চিন্তার ভাষা বদলালে মস্তিষ্ক নতুন সমাধান খুঁজতে শুরু করে।

মৃণাল চক্রবর্তী আবেগ নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, রাগ, হতাশা বা ভয়ের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে প্রথমে নিজের অনুভূতিকে বুঝতে হবে, এরপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ মিনিট সচেতনভাবে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস একজন মানুষকে আরও স্থির ও বিচক্ষণ করে তোলে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন ছোট ছোট লক্ষ্য অর্জন, সফল মানুষের চিন্তা ও কাজের ধরন পর্যবেক্ষণ করে নিজের বাস্তবতায় প্রয়োগ, কঠিন সময়ে মানসিক সহনশীলতা বজায় রাখা এবং নিজের সঙ্গে ইতিবাচক সংলাপ চালিয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বাড়ায়।

তার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন মাত্র এক শতাংশ উন্নতির অভ্যাস একজন মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা, শেখার আগ্রহ এবং দায়িত্ববোধকে প্রতিদিনের সিদ্ধান্তে প্রয়োগ করলে ব্যক্তি শুধু দক্ষতায় নয়, চরিত্রেও অনন্য হয়ে ওঠেন।

মৃণাল চক্রবর্তীর ভাষায়, অসাধারণ মানুষ সমস্যার পরিবর্তে সমাধান খোঁজেন, অজুহাতের বদলে দায়িত্ব নেন, অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে নিজের উন্নতিতে মনোযোগ দেন, ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং আবেগকে সম্মান করলেও আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেন না।

তিনি বলেন, “অসাধারণ মানুষ জন্মায় না; তারা প্রতিদিনের চিন্তা, অভ্যাস, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলে।”

তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উল্লেখ করেন। তার মতে, নিউরো-লিঙ্গুইস্টিক প্রোগ্রামিং (এনএলপি)-এর কিছু কৌশল অনেকের কাছে উপকারী মনে হলেও এর সব দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অন্যদিকে, ডায়ালেকটিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি (ডিবিটি) একটি গবেষণা-সমর্থিত মনোবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা (মাইন্ডফুলনেস) এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর। তাই এনএলপির ব্যবহারিক কৌশলগুলোকে প্রমাণভিত্তিক মনোবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় করে অনুশীলন করলে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।