জাতীয়

ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী / এ মাসেই সফর, শিগগির দিনক্ষণ ঘোষণা করবে ঢাকা-দিল্লি

  ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ১৫ অগাস্ট ২০২৬ , ১২:৪৫ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি আগস্টে দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যেতে পারেন। এ ব্যাপারে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য হোটেল দেখা হচ্ছে। সফরকালে তিনি হোটেল তাজ, মানসিং কিংবা মৌর্য শেরাটনে থাকবেন বলে সূত্র জানান। যেকোনো দিন ঢাকা ও দিল্লি একযোগে সফরের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে। এ সফরের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ২১ ও ২২ আগস্ট প্রস্তাব করেছে দিল্লি। ঢাকা এখনো এ সময়সূচি নিশ্চিত করেনি। বাংলাদেশ এখন প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচি মিলিয়ে দেখছে। তবে সফরের সময় ২৮ আগস্টের পরে হবে না। কারণ তখন নরেন্দ্র মোদিরও বিদেশ সফরের ব্যস্ততা রয়েছে। সফরসূচি চূড়ান্ত হলে এটি হবে প্রতিবেশী ভারতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম সফর।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর জন্য দিল্লি অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংকালে শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দুটি আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন। একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য, অন্যটি বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ভারতে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য। ভারত সরকার এখন তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় আছে।’

ঢাকার সূত্রমতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিবেশী ভারতে তাঁর প্রথম সফর দ্বিপক্ষীয় হওয়ার পক্ষে মত দেওয়ার পর দিল্লি ২১ ও ২২ আগস্ট সম্ভাব্য দিনক্ষণ প্রস্তাব করেছে। দিল্লির এই প্রস্তাবিত তারিখের বিষয়ে ভারতের দ্য প্রিন্ট লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তান সফর করবেন। কিরগিজ রাজধানী বিশকেকে তিনি সাংহাই কোঅপারেশন ডায়ালগের সম্মেলনে যোগ দেবেন। দ্য প্রিন্ট বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সময়ে অভ্যন্তরীণভাবে ব্যস্ত থাকবেন। ২০ আগস্ট বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারপর রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। তা ছাড়া ২৭ আগস্ট বর্তমান জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তারেক রহমানের সফরের কর্মসূচি নির্ধারণ করতে চাইছে। কিন্তু মোদির ব্যস্ততার কারণে সেপ্টেম্বরে সফর সম্ভব নয়। তা ছাড়া সেপ্টেম্বরের ১৩-১৪ তারিখে ব্রিকসের আউটরিচ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে অংশ নেবেন না। তিনি প্রতিনিধি পাঠাবেন।

জানতে চাইলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।’ এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত আর কিছু জানাননি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফরের বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারেক রহমানের বার্তা মোদিকে পৌঁছে দেওয়ার পরই আগস্টে দ্বিপক্ষীয় সফরের তোড়জোড় শুরু হয়। এদিকে ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান পরাগ জৈনের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর প্রমাণ করে বর্তমান সরকারের সঙ্গে সকল পর্যায়ে কাজ করতে আগ্রহী ভারত।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু : বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণ অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান। অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে তিনি দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করার পর ঢাকা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। ঢাকা বরাবরই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত চাইছে। তারেক রহমানের আসন্ন সফরে এ বিষয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সফরে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকারী আসামিদের ফেরত চাওয়াও হতে পারে।

এজেন্ডায় আরও যা কিছু আছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। নবায়নের লক্ষ্যে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠকের তারিখ ঘোষণা হতে পারে। ভারতের ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের দিনক্ষণ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বড় অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সহযোগিতা ও কানেকটিভিটি নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য সহযোগিতা অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। বিএসএফের জোরপূর্বক পুশইন কার্যক্রম এবং সীমান্তহত্যা বন্ধের ওপরেও জোর দেওয়া হতে পারে। রবিবার বাংলাদেশে আসতে পারে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল।