ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ২৪ জুলাই ২০২৬ , ১১:৩৬ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষাসচিব বিনীত জোশীকে অপসারণ করা হলেও আন্দোলনের তীব্রতা কমেনি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি শুক্রবার সারা দেশে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন শহরে অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমেছেন। মুম্বাইয়ের দাদারে পুলিশের একটি গাড়ির সামনে এক নারী আন্দোলনকারীর দাঁড়িয়ে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুম্বাই প্রশাসন আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বিক্ষোভ থামানো যায়নি।
বিক্ষোভকারী রিয়া আহির বলেন, “পুলিশ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা যদি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে আমাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ ছিল অন্যায়, এর দায় তাদেরই নিতে হবে।”
দিল্লি ছাড়াও কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইসহ ভারতের বড় বড় শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার সুযোগ এখনও খোলা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
তবে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, দাবি থেকে তারা একচুলও সরে আসবেন না। তিনি বলেন, “সরকার যদি আলোচনা চায়, তাহলে যন্তর মন্তর বা কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ার মতো নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠক করতে পারে। আমরা সেখানে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।”
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রথমবারের মতো কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের মতে, শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপই এখন প্রয়োজন।
এদিকে বিরোধী দল কংগ্রেসও আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। দলটির নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান সংকটের জন্য মোদি সরকারই দায়ী।
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











