ডেইলি টপ আলাপ ১২ জুলাই ২০২৬ , ২:১৬ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে শ্রমমান উন্নয়ন, আইনি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বেটার ওয়ার্ক বাংলাদেশ (Better Work Bangladesh – BWB)-এর ১৩তম বেটার ওয়ার্ক বাংলাদেশ অ্যাডভাইজরি কমিটি (BAC) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৯ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রথমবারের মতো সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।
ত্রিপক্ষীয় এই সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মালিকপক্ষ ও খাতভিত্তিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা, শ্রমিক সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণ এবং GSP+ সুবিধা অর্জনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তৈরি পোশাক খাতে শ্রম আইন প্রতিপালন ও তদারকি আরও কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বেটার ওয়ার্ক বাংলাদেশ জানায়, সমন্বিত ও প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে সহায়তা করতে প্রতিষ্ঠানটি সমষ্টিগত ও ব্যক্তিগত পরিচয়বিহীন (Aggregated and Anonymized) শ্রমমান সংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগির একটি সহযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তুলছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ শ্রম আইন বিষয়ে কারখানাগুলোর আইনি জটিলতা নিরসনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ অব্যাহত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ শ্রম আইন বিষয়ক ওয়েবিনারে ৫০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত হওয়ায় একই ধরনের আরেকটি ওয়েবিনার শিগগিরই আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
শ্রমমান লঙ্ঘনের গুরুতর বা ‘জিরো টলারেন্স’ বিষয়গুলো মোকাবিলায় অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জাতীয় শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় অংশীজনরা একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভায় ২০২৭–২০৩২ মেয়াদের জন্য বেটার ওয়ার্ক বাংলাদেশের নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন কৌশল (Sustainability Strategy) প্রণয়নের প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়। এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হবে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতীয় মালিকানা শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম বাস্তবায়নে নতুন অংশীদার যুক্ত করা।
বেটার ওয়ার্ক বাংলাদেশ জানিয়েছে, ধারাবাহিক সামাজিক সংলাপ এবং সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও সহনশীল, শ্রমমানসম্মত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অধিক প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











