ডেইলি টপ আলাপ ১১ জুলাই ২০২৬ , ১০:৪৩ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
২৫ বছর ধরে রেলস্টেশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত ছিলেন ‘বুবি’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি। স্টেশনই ছিল তার ঠিকানা, আর সেখানকার মানুষজনই ছিল তার পরিচিত মুখ। কিন্তু মৃত্যুর পর তার জীবনের নিঃসঙ্গতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য অপেক্ষা করা হলেও কোনো স্বজন হাসপাতালে আসেননি। পরে গতকাল রাতে তাকে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফনেও পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছর আগে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বুবি স্টেশনেই বসবাস করতেন। স্টেশনের টয়লেট পরিষ্কারসহ বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং ধীরে ধীরে কিছু অর্থও সঞ্চয় করেছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, সেই সঞ্চিত অর্থ ছিনিয়ে নিতে দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মমভাবে মারধর করে। পরে তার মৃত্যু হয়। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের সবাই গ্রেপ্তার হয়েছে কি না কিংবা মামলার অগ্রগতি কী—তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বুবির মৃত্যুর পর তার কবরেও স্বজনের ছোঁয়া মেলেনি। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, সাধারণত প্রিয়জনকে দাফনের পর কবরের ওপর একটি ফুলগাছ বা খেজুরের ডাল লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কবরের অবস্থান চিহ্নিত থাকে। কিন্তু বুবির ক্ষেত্রে এমন যত্ন নেওয়ার মতো কোনো স্বজন ছিল না।
স্থানীয়দের মতে, জীবনের শেষ ২৫ বছর তিনি নিজের সংসারের মতোই স্টেশনকে আগলে রেখেছিলেন। অথচ মৃত্যুর পর তাকে বিদায় জানানোর জন্যও পাশে ছিল না পরিবার। তার মতো সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়তো খুব দ্রুতই মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যাবে, তবে তার করুণ জীবনগাথা সমাজের কাছে একটি নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











