ভেস্টিজ আন্তর্জাতিক

মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জে! বিকল্প আয়ের সুযোগ হিসেবে “ডাইরেক্ট সেলিংয়ের” প্রতি আগ্রহ বাড়ছে”

  ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ৫ জুলাই ২০২৬ , ১১:৩৯ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

 ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ডাইরেক্ট সেলিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিংকে বিকল্প আয়ের একটি সম্ভাবনাময় মাধ্যম হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য, নিয়মিত শেখা এবং বৈধ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করলে ডাইরেক্ট সেলিং একজন মানুষের আর্থিক স্বাধীনতার পথ তৈরি করতে পারে।

তাদের ভাষায়, অনেক মানুষই সুন্দর, স্বচ্ছল ও নিশ্চিন্ত জীবনের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু যে অভ্যাস, পরিশ্রম ও মানসিকতা একজন সফল মানুষকে সফল করেছে, ঠিক সেই বিষয়গুলো গ্রহণ করতে অনেকেই আগ্রহী নন। ফলে প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে ছুটে চললেও জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবার সুযোগ খুব কমই হয়।

প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়লেও অধিকাংশ মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এমন বাস্তবতায় একটি আয়ের উৎসের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ডাইরেক্ট সেলিং সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তারা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেন—

১. সফল মানুষের অভ্যাস গ্রহণ করুন।
যে কাজ ও অভ্যাস একজন সফল মানুষকে সফল করেছে, সেগুলো জানতে ও অনুসরণ করতে আগ্রহী হোন।

২. জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করুন।
প্রতিদিন শুধু ব্যস্ত থাকলেই হবে না, কোথায় যেতে চান এবং কেন যেতে চান—সেই লক্ষ্যও স্পষ্ট থাকতে হবে।

৩. মূল্যস্ফীতিকে ভয় না পেয়ে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজুন।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অতিরিক্ত আয়ের উৎস তৈরি করা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন।

৪. ডাইরেক্ট সেলিংকে শুধু ব্যবসা নয়, একটি সুযোগ হিসেবে দেখুন।
তাদের মতে, এটি আত্মকর্মসংস্থান, ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।

৫. নিজের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করুন।
এই খাতে সফল হলে নতুন মানুষের জন্যও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

৬. পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভাবুন।
সন্তানের শিক্ষা, বাবা-মায়ের চিকিৎসা এবং নিজের বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজ থেকেই পরিকল্পনা শুরু করা জরুরি।

৭. সমালোচনায় থেমে যাবেন না।
নতুন কোনো উদ্যোগ নিলে সমালোচনা হবেই। তাই নেতিবাচক কথায় নিরুৎসাহিত না হয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে।

৮. ধৈর্য, শেখার মানসিকতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন।
রাতারাতি সফলতা আসে না। নিয়মিত শেখা, পরিশ্রম এবং ধৈর্যই দীর্ঘমেয়াদে সফলতার ভিত্তি গড়ে তোলে।

৯. সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করুন।
খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তারা বিশ্বের সুপরিচিত ডাইরেক্ট সেলিং প্রতিষ্ঠান ভেস্টিজ মার্কেটিং প্রাইভেট লিমিটেড-এর উদাহরণ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি গত ২২ বছরেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে ডাইরেক্ট সেলিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। মানসম্পন্ন পণ্য, প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসায়িক সুযোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কোটি মানুষের আয়ের পথ তৈরি করেছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

১০. নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিন।
তাদের ভাষায়, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনের হিসাব নিজেকেই দিতে হবে। তাই ভয় নিয়ে নয়, আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক মানসিকতা এবং পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

খাত-সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, ডাইরেক্ট সেলিংয়ে সফল হতে হলে মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা জরুরি। এটি দ্রুত ধনী হওয়ার কোনো মাধ্যম নয়; বরং সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিশ্রম এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি স্থায়ী আয়ের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।

তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ডাইরেক্ট সেলিংয়ে যুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, পণ্যের গুণগত মান, ব্যবসায়িক কাঠামো, আয়ের পরিকল্পনা এবং দেশের প্রচলিত আইন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সচেতনভাবে সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করলে ডাইরেক্ট সেলিং দীর্ঘমেয়াদে আত্মকর্মসংস্থান ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।

 

 

 

ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক