ডেইলি টপ আলাপ নিউজ ১২ জুন ২০২৬ , ৬:৩৬ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
জীবন সবসময় সহজ পথে এগোয় না—কিছু মানুষ কঠিন বাস্তবতার ভেতর থেকেই নিজের স্বপ্ন তৈরি করে নেয়। তেমনই একজন সংগ্রামী মানুষ মোহিম উদ্দিন খান।
তিনি আজও একজন গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টার কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোই ছিল এক সময় তার প্রধান সংগ্রাম। মাসিক আয় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা, যা দিয়ে পরিবার সামলানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এখানেই তিনি থেমে যাননি—বরং শুরু করেন নিজের জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়।
সংগ্রামের শুরু ও নতুন পথচলা
২০১৯ সালের মার্চ মাসে তিনি যুক্ত হন Vestige Marketing Pvt. Ltd.–এর বাংলাদেশ কার্যক্রম পরিচালনাকারী Healthy Living Private Limited-এর সঙ্গে।
গার্মেন্টসে দীর্ঘ শিফট শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েও তিনি সময় বের করতেন ব্যবসার কাজ শেখার জন্য। রাত জেগে প্রোডাক্ট স্টাডি, টিম বিল্ডিং, এবং ধীরে ধীরে লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট—সবকিছুই তিনি করেছেন শূন্য থেকে শুরু করে।
শুরুটা সহজ ছিল না।
অনিশ্চয়তা, পারিবারিক দায়িত্ব, আর্থিক চাপ—সবকিছুর মাঝেও তিনি হাল ছাড়েননি।
সাত বছরের কঠিন পরিশ্রমের ফল
দীর্ঘ প্রায় সাত বছরের ধারাবাহিক পরিশ্রমের পর তিনি অর্জন করেন বড় একটি মাইলফলক।
চেক অনুযায়ী, মার্চ ২০১৯ থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত তার মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকা (৳ ৮৩,৯৭,০৯৫/-)।
এই অর্জন শুধু টাকার হিসাব নয়—এটি একজন সাধারণ শ্রমিকের অসাধারণ আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের প্রতিফলন।
ক্রাউন ডিরেক্টর হিসেবে স্বীকৃতি
সম্প্রতি গাজীপুরে অনুষ্ঠিত ভেস্টিজ বাংলাদেশের এক জমকালো অনুষ্ঠানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রাউন ডিরেক্টর (Crown Director) হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন লিডার ও অতিথিরা। তার অর্জন ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো হল করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। অনেকেই তার সংগ্রামী জীবন থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেন।
নেতৃত্ব ও টিম গ্রোথ
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি শুধু নিজের আয়ই বাড়াননি, গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী টিমও। তার নেতৃত্বে অনেকেই আংশিক ও পূর্ণকালীনভাবে যুক্ত হয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করেছেন।
তার টিমের মধ্যে নতুন লিডার তৈরি হয়েছে, যারা নিজেদের পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
জীবন বদলানো দর্শন
একজন গার্মেন্টস শ্রমিক থেকে একই সঙ্গে চাকরি ও ব্যবসা—দুই দায়িত্ব সামলানো সহজ ছিল না। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন—
“পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, চেষ্টা থামালে জীবনও থেমে যায়।”
এই মানসিকতাই তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে ধাপে ধাপে।
অনুপ্রেরণার বার্তা
আজ মোহিম উদ্দিন খান শুধুমাত্র একজন সফল ইনকাম আর্নার নন, বরং অসংখ্য গার্মেন্টস শ্রমিক ও তরুণদের জন্য একটি বাস্তব অনুপ্রেরণা।
তার গল্প প্রমাণ করে—
সুযোগ না থাকলেও শুরু করা যায়,
সময় না থাকলেও এগোনো যায়,
আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে জীবন বদলানো সম্ভব।
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা
ডিটিএন / নিউজ ডেস্ক





