ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ৩০ জুলাই ২০২৬ , ১১:১৯ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন এবং দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো শক্তিশালী করতে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলোতে নতুন গতি সঞ্চারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ করিডোরে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে পিপিপি ভিত্তিতে নির্মিত ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পের অর্থায়ন সংকট কাটিয়ে উঠে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়া ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের মধ্যে মেঘনা নদীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান। গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে সেতু বিভাগে আয়োজিত একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের ৮ম সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আলোচনা হয়।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘First Dhaka Elevated Expressway (FDEE) Co.’-এর শেয়ারহোল্ডারদের আইনি জটিলতার কারণে সিঙ্গাপুরে আরবিট্রেশন চলমান থাকায় বিগত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চীনা দুটি ব্যাংকের ঋণের কিস্তি ছাড় বন্ধ ছিল। এই আর্থিক সংকটের মধ্যেও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে কাজ চালিয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিকল্প ঋণদাতা হিসেবে চীনের শানতং প্রদেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি ব্যাংক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ ব্যক্ত করে।
সাক্ষাতকালে সেতু সচিব জানান, আংশিক চালুর পর থেকেই এক্সপ্রেসওয়েটিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করছে এবং এটি পুরোপুরি চালু হলে বিনিয়োগকৃত অর্থ সহজেই তুলে আনা সম্ভব হবে। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এই এক্সপ্রেসওয়েসহ সারাদেশে একটি অভিন্ন ‘ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ সিস্টেম চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বৈঠকে সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) জনাব আলতাফ হোসেন সেখ ও প্রধান প্রকৌশলী জনাব এ এইচ এম এস আকতারসহ চীনা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, অবকাঠামো উন্নয়ন ও টেকসই বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের ৮ম সভায় সেতু সচিব জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ ভোলা-লক্ষ্মীপুরের মধ্যে মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণের বিষয়টি জাপানি প্রতিনিধিদলের কাছে উপস্থাপন করেন। জাপান প্রতিনিধি দলটি প্রস্তাবিত প্রকল্পটির প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখায় এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর কৌশলগত গুরুত্বের স্বীকৃতি দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জনাব আশিক চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা, MLIT-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিভিন্ন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় উভয় দেশ কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











