স্বাস্থ্য

গরমে ঠান্ডা লাগলে যা করবেন

  ডেইলি টপ আলাপ নিউজ ১০ জুন ২০২৬ , ৪:৪৩ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

ঠান্ডা লাগা শুধু শীতকালেই হয়, এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। গরম কিংবা বর্ষাকালেও নানা কারণে সর্দি-কাশি বা ঠান্ডাজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা বছরই এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি, বিশেষ করে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের ক্ষেত্রে।
চিকিৎসকদের মতে, ঠান্ডা লাগার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো শরীরে পানিশূন্যতা। গরম বা আর্দ্র আবহাওয়ায় নাকের ভেতরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গেলে জীবাণু সহজেই প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
এসব জীবাণু সাধারণত হাঁচি, কাশি বা হাতের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ ছাড়া হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনও একটি বড় কারণ।

যেমন, অতিরিক্ত এসি ব্যবহার করে খুব গরম থেকে হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়া বা উল্টোটা ঘটলে ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ে।
গরমে ঠান্ডা পানি, আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয় গ্রহণের পরও অনেকের সর্দি-কাশির সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার ঘাম বা বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ সময় থাকলেও ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা থাকে।

ঘুমের ঘাটতি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা শরীরকে সংক্রমণের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। পাশাপাশি ধুলাবালু বা ফুলের রেণু থেকেও অ্যালার্জিজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যা অনেক সময় সাধারণ ঠান্ডার মতো মনে হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন, হাত পরিষ্কার না করে চোখ, নাক বা মুখে হাত না দেওয়া, বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা এবং হাঁচি-কাশির সময় শিষ্টাচার মেনে চলা।

এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঠান্ডা তাপমাত্রা এড়িয়ে চলা উচিত। গরমে খুব ঠান্ডা পানীয় না খেয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা খাবার গ্রহণ করাই ভালো। ঘাম বা বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত শরীর শুকিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান, মৌসুমি ফল ও সবজি খাওয়া এবং নিয়মিত ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

ঠান্ডা লাগলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং বেশি করে তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। আদা ও মধু উপকারী হতে পারে। গলা ব্যথা থাকলে কুসুম গরম পানি পান করা যেতে পারে।

নাক বন্ধ হলে গরম পানির ভাপ নেওয়া বা স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘরের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহারও উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক অভ্যাস ও সচেতন জীবনযাপনই ঠান্ডাজনিত সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।