জার্মানির খুচরা বাজারে চুরি বেড়ে নতুন রেকর্ড, ক্ষতি ৪.৩৩ বিলিয়ন ইউরো
ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ২৪ জুন ২০২৬ , ১০:২৫ এএমপ্রিন্ট সংস্করণঃ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জার্মানির খুচরা বাজারে চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। দেশটির বিভিন্ন দোকান থেকে ২০২৫ সালে মোট ৪ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্য চুরি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রকাশিত এক সমীক্ষায় এ তথ্য জানিয়েছে জার্মান বাণিজ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইএইচআই। জার্মান সংবাদমাধ্যম টাগেসচাওয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি দায়ী সাধারণ ক্রেতা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র।
সমীক্ষা অনুযায়ী, মোট চুরির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংঘটিত হয়েছে পেশাদার চোরচক্রের মাধ্যমে। তারা সাধারণ ক্রেতার বেশে দোকানে প্রবেশ করে মদ, প্রসাধনী, ব্র্যান্ডের সুগন্ধি ও শেভিং ব্লেডের মতো পণ্য চুরি করে বাইরে বিক্রি করে দেয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের চুরির কারণে গত বছর প্রায় ৯১ কোটি ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ডেলিভারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততায় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি ইউরো।
শুধু চুরি নয়, ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ত্রুটিও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো মূল্যছাড়ের ট্যাগ অপসারণ না করা, হিসাবের ভুল এবং পণ্য সরবরাহে অসঙ্গতির কারণে ২০২৫ সালে প্রায় ৭৮ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইএইচআই।
এদিকে, স্বয়ংক্রিয় বা সেলফ-চেকআউট ব্যবস্থাও নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক ক্রেতা পণ্য স্ক্যান না করে অথবা কম দামের পণ্যের বারকোড স্ক্যান করে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন। এর ফলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।
ইএইচআইর তথ্যমতে, জার্মানির ২১ হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্রে সংঘটিত এসব চুরির কারণে দেশটির সরকার প্রতি বছর প্রায় ৫৯ কোটি ইউরো ভ্যাট রাজস্ব হারাচ্ছে।
সমীক্ষার লেখক ফ্রাঙ্ক হর্স্ট বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি অনেক ভোক্তা ও কর্মচারীকে আর্থিক চাপে ফেলেছে। অর্থনৈতিক এই সংকট চুরির হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।
অন্যদিকে, জার্মান খুচরা ব্যবসায়ী সমিতি (এইচডিই) জানিয়েছে, দোকানে সংঘটিত প্রায় ৯৮ শতাংশ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা অভিযোগও করেন না। ফলে প্রকৃত চুরির পরিমাণ প্রকাশিত পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতা—সব মিলিয়ে জার্মানির খুচরা বাজারে চুরি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।