আন্তর্জাতিক

ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচাকে ‘হারাম’ ঘোষণা করে ফতোয়া দিলেন মুফতি তাকি উসমানি

  ডেইলি টপ আলাপ ১২ জুলাই ২০২৬ , ১২:৪৫ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

 পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচির প্রেসিডেন্ট এবং ফেডারেশন অব আরব স্কুলের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি ক্রিপ্টোকারেন্সির কেনাবেচাকে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী অবৈধ বা ‘হারাম’ ঘোষণা করে একটি বিস্তারিত ফতোয়া জারি করেছেন।

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইসলামি শরিয়াহে বর্ণিত ‘মাল’ (সম্পদ) হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে না। তাই এটি কেনাবেচার জন্য বৈধ সম্পদ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়, বর্তমান পর্যন্ত প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ মতামত ও গবেষণার ভিত্তিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বাস্তব বা শরিয়াহ-স্বীকৃত সম্পদ নয়; বরং এটি ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু ভার্চুয়াল সংখ্যার সমষ্টি।

মুফতি তাকি উসমানি বলেন, ইসলামি আইনে বৈধ মালিকানার জন্য যেসব মৌলিক শর্ত থাকা প্রয়োজন, ক্রিপ্টোকারেন্সি তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এর মাধ্যমে পরিচালিত ক্রয়-বিক্রয় শরিয়াহসম্মত বৈধ লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

ফতোয়ায় আরও বলা হয়, বিটকয়েন, ইউএসডিটি (USDT), বিভিন্ন স্টেবলকয়েন কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের ক্রিপ্টো টোকেন ব্যবহার করে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় বা আর্থিক লেনদেন শরিয়াহসম্মত নয়। ভার্চুয়াল কারেন্সি, ক্রিপ্টো টোকেন বা স্টেবলকয়েন—যে নামেই এসব ডিজিটাল সম্পদ পরিচিত হোক না কেন, সবগুলোর ক্ষেত্রেই একই শরিয়াহ বিধান প্রযোজ্য হবে।

ফতোয়া প্রদানকারী আলেমরা যুক্তি দেন, ইসলামি ফিকহে বৈধ সম্পদ ও মালিকানার যে সংজ্ঞা রয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি তা পূরণ করতে ব্যর্থ। ফলে শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির ট্রেডিং বা লেনদেন বৈধ নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি বাণিজ্যিক নীতিমালার আলোকে মুফতি তাকি উসমানির এ রুলিং বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির ধর্মীয় বৈধতা নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে উল্লেখ্য, এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামি গবেষক ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে; কেউ কেউ নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কিছু ধরনের ডিজিটাল সম্পদকে বৈধ বলে মত দিয়েছেন।

সূত্র: সামা টিভি।

 

 

ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক