ডেইলি টপ আলাপ ৫ জুলাই ২০২৬ , ৮:১৮ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
জুলাই জাদুঘরে ১৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে একাত্তর টিভিতে প্রচারিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ওই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা ।
দ্যা ডিসেন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারুকী বলেন, জাদুঘর নির্মাণে এখন পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এক কলমের ঝটকায় ১৩০ কোটি কীভাবে ১৫০ কোটি হয়ে গেল? যদি সত্যিই ১৫০ কোটি টাকার বাজেট হয়ে থাকে, তাহলে সেই বাজেটের সরকারি নথি কোথায়? শুধুমাত্র ধারণার ভিত্তিতে কি মূলধারার গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করা যায়?”
তিনি আরও দাবি করেন, মোট ব্যয়ের মধ্যে ৯৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জিটুজি (G2G) পদ্ধতিতে প্রকল্পটির দায়িত্ব গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছিল। কিন্তু প্রতিবেদনে পুরো দায় জাতীয় জাদুঘরের ওপর চাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে—যদি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে ৯৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশ করা হয়নি কেন? আর কেন পুরো ১৩০ কোটি টাকার ব্যয়ের দায় জাতীয় জাদুঘরের ওপর আরোপ করা হলো?
ডকুমেন্টারি নির্মাণে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ সম্পর্কেও ফারুকী বলেন, চার থেকে পাঁচ মিনিটের কোনো ডকুমেন্টারির জন্য ২৭ লাখ টাকা খরচ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত ব্যয়ের তালিকা জাতীয় জাদুঘর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে সরবরাহ করেছিল। এরপরও ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—যদি ব্যয়ের প্রকৃত তথ্য আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের কাছে থাকে, তাহলে সেই তথ্য উপেক্ষা করে বিভ্রান্তিকর তথ্য কীভাবে প্রচার করা হলো?
সীমান্তপ্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণ ব্যয় নিয়েও ফারুকী বলেন, জাতীয় জাদুঘর এ খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। বরং গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, ওই ব্যয় তাদের পক্ষ থেকেই করা হয়েছে। এরপরও প্রতিবেদনে জাতীয় জাদুঘরের নামে এ ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে, গণপূর্ত বিভাগের বক্তব্য থাকার পরও প্রতিবেদনে কেন জাতীয় জাদুঘরের ওপর দায় চাপানো হলো।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে একাত্তর টিভির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের ভাষ্য, এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না এলে জনমনে বিভ্রান্তি আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, একাত্তর টিভির পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











