ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ২৫ জুন ২০২৬ , ৬:৩৫ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
বৈঠকে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কাছে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) কেবল প্রযুক্তিনির্ভর একটি উদ্যোগ নয়; এটি সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন নাগরিক যেন রাজধানীর একজন বাসিন্দার মতোই সমান সহজে, দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার এমন একটি সেবাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে নাগরিকদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমবে এবং সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর হবে। সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর, সহজলভ্য ও জনবান্ধব করতে ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আন্তঃসংযুক্ত সেবাপ্ল্যাটফর্ম এবং নাগরিক অংশগ্রহণভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি ‘ডিজিটাল-ফার্স্ট’ সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রযুক্তিকে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ ও সেবা পাওয়ার অধিকার ভোগ করবেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রযুক্তির সুবিধা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সরকারি সেবার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে।
জাতিসংঘের এ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হলে অংশগ্রহণকারীরা দেশের ডিজিটাল অগ্রগতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশলের প্রশংসা করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে কেন্দ্র করে সরকারের চলমান উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি সেবার মান আরও উন্নত হবে, নাগরিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং একটি আধুনিক, স্মার্ট ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।
‘জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস ফোরাম ২০২৬’-এ বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ডিজিটাল সক্ষমতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিবিলিসি, জর্জিয়া:
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











