সারাদেশ

১৬ দিনে ৪ দফা ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা: ৬৪ জনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি

  ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ২২ জুন ২০২৬ , ৫:৫৬ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে গত ১৬ দিনের ব্যবধানে চার দফায় ৬৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সব কটি চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

একের পর এক পুশ-ইনের চেষ্টার ঘটনায় সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি। তাদের টহল কার্যক্রমে সহায়তা করছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে রাতের আঁধারে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। পরে রাতেই তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর ১৩ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জন এবং ১৫ জুন এক মধ্যবয়স্ক নারীকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নেয়।

 

সর্বশেষ গত ২০ জুন সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিজিবি ও স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর তাদের আবার ভারতে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।

সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে ভারতের সঙ্গে। এর মধ্যে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় নদী, বাগান ও ঘন জঙ্গল থাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। এসব এলাকাকে ব্যবহার করেই পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে পুশ-ইনের সুযোগে সীমান্ত এলাকায় দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা মাথাপিছু ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারত থেকে লোকজনকে বাংলাদেশে আনার কাজে জড়িত বলে জানা গেছে।

গত ১৩ জুন রোকনপুর সীমান্তে এমন একটি চক্রের তথ্য পাওয়ার পর সাতজন দালালকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর ওই সীমান্ত এলাকায় আর কোনো পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে বকচর, হাকিমপুর, চরবাগডাঙ্গা, বাখেরআলী, জহুরপুর ও জহুরপুর টেক সীমান্ত এলাকায় এখনও দালাল চক্রের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। পুশ-ইন, চোরাচালানসহ যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক ও সজাগ রয়েছে।