অর্থনীতি

শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ উপকরণ আমদানি, কমবে বিদ্যুৎ খরচ

  ডেইলি টপ আলাপ নিউজ ১১ জুন ২০২৬ , ৪:৩৭ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা গেছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানিতে আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর তুলে দিয়েছে সরকার। এতে করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমতে পারে ২৫ থেকে ৩০ শতাং

শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ উপকরণ আমদানি, কমবে বিদ্যুৎ খরচ
নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা গেছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানিতে আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর তুলে দিয়েছে সরকার। এতে করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমতে পারে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বক্তৃতায় এমন ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ উৎস সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রসারে এই খাতসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণসমূহ আমদানিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ করে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রস্তাব করছি।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুল্ক তুলে দিতে যে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এতে গড়ে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক থেকে রেহাই পাবে সৌরবিদ্যুৎ খাত। এর মধ্য দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিনিয়োগে ইতিবাচক সাড়া তৈরি হবে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন ধারা শুরু হবে। প্রতি মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অন্তত ৬০ জনের কর্মসংস্থান তৈরি হয়। এখন এ খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। এতে আগামী পাঁচ বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতে পারে।

সরকারের এমন নীতিগত সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউবেল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এতে নবায়নযোগ্য খাত নিয়ে সরকারের আন্তরিকতা পরিষ্কার হয়েছে। টেকসই উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানির আপাতত বিকল্প নেই। এখন শিল্প বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে, বাসায়ও অনেকে আগ্রহী হবেন।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে শুল্ক-কর তুলে দেওয়ার রেয়াতি সুবিধা আগামী ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত বলবৎ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেট বক্তৃতায়। এই খাতের ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে এমন প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম ইত্যাদি পণ্যগুলোর রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুনের পর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। দেশে এই খাতসংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে এটি প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি উৎপাদনকারী শিল্পে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির কথা বলা হয়েছে বাজেট বক্তৃতায়। এতে বলা হয়, দেশে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারি এবং লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে চায় সরকার। তাই এ ধরনের পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতির সুবিধা প্রদান করে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেট বক্তৃতায়।