ডেইলি টপ আলাপ নিউজ ৩ জুন ২০২৬ , ৯:৫১ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
নিউইয়র্ক, ৩ জুন: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পান ৯১ ভোট।

এই বিজয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেনি, বরং বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় দেশের সক্রিয় ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও এনে দিয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, বাংলাদেশের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নির্বাচনের জন্য হাতে ছিল মাত্র তিন মাস। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সক্ষম হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুযোগ না থাকলেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমর্থন নিশ্চিত করা হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালেই তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে এবং প্রায় এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। তবুও বাংলাদেশের সমন্বিত ও কৌশলগত প্রচারণা শেষ পর্যন্ত বিজয় নিশ্চিত করে।
নির্বাচনী প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এছাড়া নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পায় কার্যকর বহুপাক্ষিকতা, জাতিসংঘের সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো।
সরকার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং জাতিসংঘের মূলনীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই বিজয়কে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।











