ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ১৫ অগাস্ট ২০২৬ , ৮:২৪ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের অন্যতম প্রধান সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-৫ (এসএমডব্লিউ-৫) আবার সচল হয়েছে। এতে দেশে বড় ধরনের ইন্টারনেট বিপর্যয়ের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটে গেছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেবলটির পূর্ব ও পশ্চিম—দুই দিকের সংযোগই পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে দুপুর ২টার দিকে সংযোগ পুনরায় চালু হয়।
সংযোগ বন্ধ থাকার আড়াই ঘণ্টায় দেশের বহু গ্রাহক ইন্টারনেটে ধীরগতি, বিদেশি ওয়েবসাইট বা সার্ভারে প্রবেশে বিলম্ব এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়েন।
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস (বিএসসি) পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, কেবলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মেরামত শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় (ইটিআর) তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। কারণ বিএসসিপিএলসি মূল কনসোর্টিয়ামের তথ্যের অপেক্ষায় ছিল। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার মাতারা এলাকার ল্যান্ডিং স্টেশনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বা যন্ত্রপাতিতে কোনো সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। তবে সংযোগ স্বাভাবিক হলেও আন্তর্জাতিক এই কেবলের ত্রুটির প্রকৃত ও চূড়ান্ত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইন্টারনেটে সাময়িক প্রভাব
বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের একটি বড় অংশ আসে এসএমডব্লিউ-৫ থেকে। এই কেবল বন্ধ থাকা অবস্থায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে (আইএসপি) বিকল্প পথে ট্রাফিক ডাইভার্ট করতে হয়েছে। যেসব আইএসপি দ্রুত বিকল্প লাইনে সংযোগ স্থানান্তরিত করতে পেরেছে, তাদের গ্রাহকেরা তুলনামূলক কম সমস্যায় পড়েছেন। তবে সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক সার্ভারভিত্তিক কাজ, অনলাইন মিটিং, গেইমিং ও ফাইল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা আড়াই ঘণ্টা সাময়িক ধীরগতির মুখোমুখি হন।
বর্তমানে বাংলাদেশে এসএমডব্লিউ-৫ ছাড়াও এসএমডব্লিউ-৪ এবং ভারতের সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক টেরিস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) সংযোগ চালু রয়েছে। এই ব্যাকআপ ব্যবস্থার কারণেই একটি সাবমেরিন কেবল হুট করে বন্ধ হলেও পুরো দেশ ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে না।
ঘটনার তাৎক্ষণিক সমাধান হলেও মূল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ত্রুটির কারণ নিয়ে। একই স্থানে বা যন্ত্রপাতিতে ফের একই ধরনের ঘটনা ঘটবে কি না, তা নিশ্চিত হতে এসএমডব্লিউ-৫ কনসোর্টিয়ামের চূড়ান্ত ত্রুটি প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে বিএসসি। কনসোর্টিয়ামের ব্যাখ্যা পেলেই জানা যাবে আড়াই ঘণ্টার এই আকস্মিক ব্ল্যাকআউটের আসল কারণ।
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











