লাইফস্টাইল

শিশুদের ৬ টুথপেস্টের ৪টিতেই মিলল ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, এসডোর গবেষণায় উদ্বেগ

  ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ২৬ জুলাই ২০২৬ , ২:১৫ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

বাংলাদেশের বাজারে শিশুদের ব্যবহারের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি জনপ্রিয় টুথপেস্ট ব্র্যান্ডের মধ্যে ৪টিতেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ১৪০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, শিশুদের দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্যে এমন উপাদানের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এক বছরব্যাপী গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে।

গবেষণা অনুযায়ী, শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-তে সবচেয়ে বেশি ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া মেরিল বেবি স্ট্রবেরি-তে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জ-এ ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জ-এ ২০টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। তবে শিশুদের জন্য আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জ এবং দেশে উৎপাদিত প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) টুথপেস্টে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

এসডোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু শিশুদের টুথপেস্ট নয়, বাজারে প্রচলিত দেশি-বিদেশি মোট ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেল-এ।

বড়দের ব্যবহৃত জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশ-এ ১৬০টি করে, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি করে এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট-এ ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে দেশে উৎপাদিত জেনফ্রেশ এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি টুথপেস্টে কোনো প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়নি।

উৎপাদনকারী দেশের ভিত্তিতে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরীক্ষা করা স্থানীয় ২৫টি ব্র্যান্ডের ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনামের ২টির দুটিতে, থাইল্যান্ডের ২টির একটিতে এবং ভারতের ৫টির একটিতে এই ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে।

এসডো জানায়, গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ পরিচালনার পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় আধুনিক স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (FTIR) স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষকরা টুথপেস্টসহ ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

 

 

ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক