ডেইলি টপ আলাপ ১৫ জুলাই ২০২৬ , ১১:১০ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
বার্তা সংস্থা এপি, রয়টার্স ও ইউরো নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ইইউর ২৭ সদস্য দেশের মধ্যে ১৫ দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইউরোপে অবস্থানরত আফগান নাগরিকদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন, কনস্যুলার সেবা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তালেবান দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ইউরোপের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ব্রাসেলসে এই বৈঠক সেই প্রচেষ্টারই অংশ। যদিও ইইউর কোনো সদস্য রাষ্ট্র এখনো তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও এই সংলাপকে উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরির একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভো বলেন, ইইউর অনুরোধে তালেবান প্রতিনিধিদের সীমিত সময়ের জন্য ভিসা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, বৈঠক আয়োজনের অর্থ তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস ল্যামার্টও বলেন, এই আলোচনা মূলত আফগান নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বাস্তব বিষয় নিয়ে হয়েছে। এটি কোনোভাবেই তালেবান সরকারকে রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নয়।
অন্যদিকে তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বলখি জানান, ইউরোপে বসবাসরত আফগানদের জন্য কনস্যুলার সেবা পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য বিদেশে থাকা আফগান নাগরিকদের কনস্যুলার অধিকার নিশ্চিত করা।
বর্তমানে জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ইতালি, অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েক লাখ আফগান নাগরিক বসবাস করছেন। ইউরোপের বিভিন্ন সরকার অপরাধে জড়িত এবং আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত আফগান নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উপায় খুঁজছে।
তবে এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবাধিকার সংকটের জন্য দায়ী একটি শাসনব্যবস্থার সঙ্গে এমন যোগাযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তালেবানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় আফগান নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক ফেরেশতা আব্বাসি বলেন, তালেবানের সঙ্গে সংলাপ হলে সেখানে মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে আফগান নাগরিকদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হলে তারা নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তালেবানের সঙ্গে এই সংলাপ আপাতত মানবিক ও অভিবাসন ইস্যুকেন্দ্রিক হলেও এটি ভবিষ্যতে ইউরোপ ও আফগানিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, এপি ও ইউরো নিউজ











