সারাদেশ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম: প্লাবিত বিস্তীর্ণ জনপদ, বন্ধ রেল চলাচল

  ডেইলি টপ আলাপ ৯ জুলাই ২০২৬ , ৮:৪২ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

টানা চার দিনের অতিভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের বিভিন্ন জনপদ। বন্যায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়াসহ একাধিক উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক পরিবার রান্না করতে পারছেন না এবং বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে নদ-নদী ও খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোথাও কোথাও পানি কিছুটা কমলেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। অনেক মানুষ টানা দুই দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

পার্বত্য অঞ্চলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু, খাগড়াছড়ি শহর এবং বান্দরবান জেলা শহর ও লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একইভাবে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বন্যার পানিতে মাছের খামার ভেসে গেছে, ডুবে গেছে কৃষকের ফসলের ক্ষেত। যদিও এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। উপজেলার একাধিক এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ইতোমধ্যে অসংখ্য ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামীকালও যদি বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটে, তাহলে মানুষের দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

 

ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক