আন্তর্জাতিক

তেহরানে আজ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় রাজধানীতে মানুষের ঢল

  ডেইলি টপ আলাপ ৫ জুলাই ২০২৬ , ১০:১২ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে আজ রোববার রাজধানী তেহরানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে রাজধানীতে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। দেশজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে ইরান সরকার।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার ও জানাজা আয়োজন কমিটির প্রধান হাসান হাসানজাদেহ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজার ইমামতি কে করবেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। কোনো জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা নাকি পরিবারের কোনো সদস্য এ দায়িত্ব পালন করবেন, তা জানাজা শুরুর আগ পর্যন্ত অনিশ্চিত ছিল।

জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে পদদলিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ সতর্কতাও জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে শনিবার শোক কর্মসূচির প্রথম দিনে লাখো মানুষ কালো পোশাক পরে এবং লাল পতাকা হাতে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। এ সময় সমবেত জনতার একটি অংশ ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ ও ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই বিশাল জনসমাগমকে দেশটির ঐক্য, শক্তি ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার তেহরানজুড়ে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে। বুধবার কফিন নেওয়া হবে প্রতিবেশী ইরাকে, যেখানে নাজাফ ও কারবালায় শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে তাঁকে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় ৮৬ বছর বয়সে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে মোজতবা আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে, যদিও হামলায় আহত হওয়ার কারণে তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।

 

 

 

 

ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক