ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ২১ অগাস্ট ২০২৬ , ১১:০৮ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
একসময় শহর থেকে গ্রাম- সবখানেই দেখা মিলত কেও গাছের। রাস্তার পাশে কিংবা নালার ধারে গুচ্ছ গুচ্ছ লম্বা কেও গাছের সারি ছিল পরিচিত দৃশ্য। তবে নগরায়ন, পরিবেশের পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাওয়ায় ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ এই উদ্ভিদটি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। আগের মতো চোখে না পড়ায় দুর্লভ উদ্ভিদের তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে কেও।
মঙ্গলবার সকালে রংপুর মহানগরীর জিএল রায় রোডে প্রয়াত খ্যাতিমান ক্রীড়া সংগঠক ও আইনজীবী বজলুর রহমানের ভেঙে ফেলা ঐতিহাসিক বাড়ির ইন্দারার কাছে কেও গাছের সন্ধান পাওয়া যায়। কেও বা কেওমূল একটি বহুবর্ষজীবী সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি আদা গোত্রের উদ্ভিদ। সাধারণত বর্ষার শেষে এতে ফুল আসে এবং পরে ফল ধরে। বীজ ও কন্দের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। পাখির মাধ্যমেও বীজ ছড়িয়ে পড়তে পারে। কেও গাছের ফল পাখির প্রিয় খাদ্য।
উদ্ভিদটি সম্পর্কে বাংলা একাডেমির সহপরিচালক ও বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না জানান, ছায়াযুক্ত, ঘন ঝোপঝাড় ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় কেও গাছ জন্মে। এর শিকড় থেকে অসংখ্য ডালপালা বের হয়ে ঘন ঝোপ তৈরি হয়। কাণ্ড নলের মতো লম্বা হয়।
তিনি বলেন, কেও গাছের পুষ্পাধার বেশ আকর্ষণীয়। থরে থরে সাজানো মঞ্জরিপত্র লাল রঙের হয় এবং এর মধ্য থেকে সাদা ফুল বের হয়। বনজঙ্গলের সবুজের মধ্যে লাল মঞ্জরিপত্র ও সাদা ফুলের গুচ্ছ মনোরম দৃশ্যের সৃষ্টি করে।
আবিদ করিম মুন্না আরও জানান, কেওর কন্দে ডায়োসজেনিন নামের একটি উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদান থেকে এক ধরনের স্টেরয়েড তৈরি করা হয়। কেও গাছের কন্দমূল, পাতা ও বীজের বিভিন্ন লোকজ ব্যবহারও রয়েছে।
লোকজ চিকিৎসায় কেও গাছের বিভিন্ন অংশ গাঁটে গাঁটে ব্যথা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা, বদহজম, জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা ও চর্মরোগে ব্যবহারের কথা জানা যায়। তবে এসব ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে উদ্ভিদটি ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম Costus speciosus এবং পরিবার Costaceae। বাংলায় এটি কেও, কুষ্মা বা কেমূক নামে পরিচিত। মারমা জনগোষ্ঠীর কাছে এটি ‘ক্রাইতং মুই’ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘টিয়াটই’ নামে পরিচিত। ভারতীয় বিভিন্ন ভাষায়ও এর আলাদা আলাদা নাম রয়েছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং লোকজ ও ঔষধি গুরুত্ব বিবেচনায় হারিয়ে যেতে বসা কেও গাছ সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।











