ডেইলি টপ আলাপ ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০:০৬ পিএম প্রিন্ট সংস্করণঃ
গ্রীষ্মকালীন কালো রঙের তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গন্ডুল গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম। তরমুজ চাষে ভালো লাভ পেয়ে তার মুখে ফুটেছে রঙিন হাসি। তার সফলতা দেখে প্রতিবেশী কৃষকরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
সূত্রমতে, ১৫ শতক জমিতে রফিকুল ইসলাম ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষ করেছেন। এতে তার ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তা বিক্রি করেছেন ৪৫ হাজার টাকা। বৃষ্টিতে কিছু চারা নষ্ট না হলে এই লাভের পরিমাণ আরও বাড়তো বলেও তিনি জানান।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গন্ডুল গ্রামের মাঠ জুড়ে কলা, পুঁই শাক, বরবটি, বেগুন, লাউ, শসা আর নানা সবজির সমারোহ। মাঝে একটি জমিতে মাচা দেওয়া। ষেখানে মাটিতে উঁচু বেড তৈরি করে তার উপরে মালচিং পেপার দেখা যায়।
এদিকে লাল নেট ব্যাগে ঝুলানো কালো রঙের কিছু ঝুলতে দেখা যায়। প্রথম দেখায় মনে হবে কাঁচা কুমড়ো ঝুলছে। কৃষক রফিকুল ইসলাম সহযোগীদের নিয়ে জমিতে ফল তুলছেন। জমির পাশে নিয়ে কাটার পর দেখা গেল লাল টকটকে তরমুজ। স্থানীয়রা কেজি ৬০ টাকা ধরে ক্রয় করছেন।
জমিটি ইতোমধ্যে উপজেলা কৃষি অফিসার আফরিণা আক্তার ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আতিকুর রহমান পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় কৃষক আবুল কাসেম ও জামাল মিয়া বলেন, এই মৌসুমে তরমুজ চাষ হতে দেখিনি। রফিক যখন তরমুজের চারা লাগান তা দেখে আমরা আশ্চর্য হয়েছি। এখন কিভাবে তরমুজ চাষ হবে? এখন দেখলাম ভালো ফলন হয়েছে। তরমুজের স্বাদও চমৎকার। ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। আমরাও তরমুজ চাষ করবো।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষে আমার আগ্রহ জাগে। মৌসুমে লোকসান হলেও গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে লাভবান হয়েছি। বিশেষ করে মালচিং পেপার ব্যবহারে পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। এছাড়া আগাছা উঠতে পারেনি।
উপজেলা কৃষি অফিসার আফরিণা আক্তার বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে এই কৃষককে আমরা প্রদর্শনী দিয়েছি। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি। রফিকুলের সফলতা দেখে অন্য কৃষকরাও সফল হয়েছেন। তিনি আরও ১২শত চারা লাগাবেন বলেও জানিয়েছেন।
প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদ হাসনাত বলেন, প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদের জন্য উন্নত বীজ, সার এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিনামূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। অসময়ে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে অফ-সিজন তরমুজ চাষ ও বিভিন্ন আধুনিক মাচা পদ্ধতির চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এতে তারা ভালো সফলতা পাচ্ছেন।
ডিটিএ / নিউজ ডেস্ক











