কৃষি-সংবাদ

ভূগর্ভ থেকে পানি তুলে আমন চাষ, বাড়তি খরচে বিপাকে কৃষক

  ডেইলি টপ আলাপ ২৩ অগাস্ট ২০২৬ , ১১:০৯ এএম প্রিন্ট সংস্করণঃ

আগস্ট মাসে রংপুরে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা থাকলেও ২২ আগস্ট পর্যন্ত হয়েছে মাত্র প্রায় ১০০ মিলিমিটার। প্রয়োজনের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় প্রকৃতিনির্ভর আমন ধানের ক্ষেতগুলোতে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। আমন রক্ষা করতে কৃষকরা এখন ভূগর্ভ থেকে পানি তুলে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে একরপ্রতি সেচে তাদের বাড়তি খরচ হচ্ছে প্রায় ৮ হাজার টাকা।

রংপুর বিভাগের আট জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১১ লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃষ্টির অভাবে এসব জমিতে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকদের বাড়তি বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

রংপুর নগরীর খাসবাগ এলাকার আমনচাষি আসাদুজ্জামান আফজাল বলেন, আমন ধানের বয়স বর্তমানে দুই থেকে আড়াই মাস। এ পর্যন্ত চারবার জমিতে সেচ দিতে হয়েছে। ২৪ শতক জমিতে প্রতি ঘণ্টা সেচ দিতে খরচ হচ্ছে ১২০ টাকা। চার দফায় প্রায় ২২ থেকে ২৫ ঘণ্টা সেচ দিতে হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকার বেশি। সেই হিসাবে প্রতি একরে বাড়তি খরচ হচ্ছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। সময়মতো বৃষ্টি হলে এই বাড়তি সেচের প্রয়োজন হতো না।

রংপুর সদর উপজেলার আমনচাষি আমিনুর রহমান দুই একর জমিতে আমন আবাদ করেছেন। বৃষ্টির অভাবে জমিতে পানি না থাকায় তিনি সেচের মাধ্যমে পানি দিয়েছেন। প্রতি ঘণ্টায় সেচ দিতে খরচ হয়েছে ১২০ টাকা। এতে তার বাড়তি খরচ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার টাকা। তার জমির ধানের বয়স বর্তমানে দেড় থেকে দুই মাস।

কৃষকরা জানান, বৃষ্টির অভাবে অনেকেই ধারদেনা করে জমিতে সেচ দিয়ে আমন আবাদ রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অনেকেই অর্থের অভাবে জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে পারছেন না। তারা এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন। রংপুর বিভাগের কয়েক লাখ আমনচাষি পানির সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টির অভাবে প্রতি একর জমিতে সেচ দিতে কৃষকদের প্রায় ৮ হাজার টাকা বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। বিভাগের আট জেলায় প্রায় ১১ লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রথম দফায় সেচ বাবদ কৃষকদের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আবার সেচের প্রয়োজন হলে খরচ আরও বাড়বে। এতে চলতি মৌসুমে আমন আবাদে কৃষকদের বাড়তি ব্যয় কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মৌসুমের শুরুতে কিছুটা বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকরা বীজতলা তৈরি করেন। পরে বৃষ্টির অভাবে বাড়তি অর্থ খরচ করে সেচের মাধ্যমে জমি প্রস্তুত করে আমনের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করতে হয়েছে। বর্ষা মৌসুম পেরিয়ে গেলেও এবার অঝোর ধারার বৃষ্টির দেখা মেলেনি। মাঝে মধ্যে আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা দেখা গেলেও ছিটেফোঁটা বৃষ্টি ছাড়া তেমন কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে উত্তরের আমনখেতগুলোতে পানির সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ১১ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষক এখনো অনেকটা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কখন আকাশ থেকে পর্যাপ্ত বৃষ্টি নামবে, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমন ধান একসময় বৃষ্টিনির্ভর ছিল। এখন অনেক ক্ষেত্রেই এটি সেচনির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টির ঘাটতি থাকায় কৃষকদের সেচ বাবদ বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। গত দুই মাসে প্রয়োজনের তুলনায় এ অঞ্চলে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজ রহমান জানান, আগস্ট মাসে রংপুরে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা থাকলেও ২২ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১০০ মিলিমিটার।