ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা যখন তিন মাসের সংঘাতের অবসানের আশাবাদ তৈরি করছিল, ঠিক সেই সময় নতুন করে মার্কিন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করছিল এমন চারটি ইরানি ড্রোন তাদের বাহিনী ধ্বংস করেছে।

এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেলের বাজারে। হামলার খবর প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৮৩ ডলারে পৌঁছায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রুড অয়েলের দামও প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২২ ডলারে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেই জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে পড়ে, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সেই সময় তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এরপর থেকেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথকে ঘিরে যেকোনো সামরিক অস্থিরতা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলে।
নতুন এই হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা। তাদের আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতির পরিবেশ নষ্ট হলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।